বিসমিল্লাহীর রহমানির রহীম

Home Signup
17th January 2022
Happy !!
Monday
Visit Our Official Website Abc24.GA
HomeHorror Storyএক জনের “”অস্তিত্ব”” সে কোথাই যে অজানা রাজ্যে হারিয়ে জায়
নিজের নামে Website বানাতে এখানে ক্লিক করুন
★ এক জনের “”অস্তিত্ব”” সে কোথাই যে অজানা রাজ্যে হারিয়ে জায়

এক জনের “”অস্তিত্ব”” সে কোথাই যে অজানা রাজ্যে হারিয়ে জায়

5 years ago
Administrator

This author may not interusted to share anything with others

একটা ছেলে দুপুরবেলায় তার কলেজ করিডোর দিয়ে হেটে যাচ্ছে, ছেলেটার আকর্ষণীয় চেহারা আছে,ভাল স্বাস্থ্য, মেধাবী,,,,অন্তঃ করণও বেশ ভাল। কিন্তু করিডোর দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় স্বাভাবিক হাস্যোজ্জ্বল শিক্ষার্থীরা ভয়ে তটস্থ হয়ে গেল, করিডোরে গল্প করতে থাকা ছাত্র ছাত্রীরা ছেলেটাকে আসতে দেখে ভয়ে জড়সড় হয়ে দুইপাশে সরে গেল, একমুহূর্ত আগের কলরবে মুখর পরিবেশটা থমথমে নীরব হয়ে গেল। সবচেয়ে রাগী টিচারটাও লেকচার শেষে ক্লাসরুম ছেড়ে বের হয়ে তাকে দেখে কেমন জানি মিইয়ে গেল। ছেলেটা এইসব পরিস্থিতিতে পড়তে চায় না,,, কিন্তু কয়েকমাস আগে থেকে তার যেন কি একটা হয়েছে,,,সে আগের মত নেই,,, সে স্বাভাবিক নেই,,,

এইতো কয়েকমাস আগেই ছেলেটা কত স্বাভাবিক, সাধারণ ছিল,, ক্লাসে আসত,লেকচার শুনত,নোট করত,,, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিত,,,

আজ সে যেদিকে তাকায় সব কেন যেন নিঝুম।নিস্তব্ধ,,,, প্রথম প্রথম সে ক্লাসে অজ্ঞান হয়ে যেত,খিচুনি উঠত,,,, প্যান্ট নষ্ট হয়ে যেত,,, মানুষ হাসাহাসি করত,ব্যঙ্গ করত,,, পরে সবাই বুঝল,,,ছেলেটার কি যেন একটা হয়েছে,,,কোন মস্তিষ্কের সমস্যা??? মৃগী??

হ্যা,,একদম প্রথমে এটাকে মৃগীই বলত সবাই,,,ইসসস কি থেকে কি হয়ে গেল ছেলেটা,,,এত ভাল, সুস্থ একটা ছেলে চোখের নিমিষেই কি সব রোগে পড়ল। তার বিভিন্ন সিম্পটম দেখে ডাক্তাররা মনে করল ব্রেইন টিউমার,, কিন্তু সিটি স্কানে কিছুই ধরা পড়ত না।

আজব রোগটার কোন চিকিৎসাই হল না,,,, কিন্তু একটা ছেলের হঠাৎ খিচুনি উঠলেই তাকে ভয় পেতে হবে এমন কোন কথা তো নেই। কয়েকদিন পর ছেলেটা খিচুনির মধ্যে বিড়বিড় করতে থাকল,আজব আজব কিছু জড়ানো শব্দ বলতে থাকল,,,যাদের সামনে সে অজ্ঞান হয়ে যেত তারা শুনতে পেত ও কি বলছে,,,

“কে?? কে ডাকে???”
“কই থাক তুমি?”
“কি বিপদ???”
“কোন মন্দিরে?”
“ভাল পুরোহিত,খারাপ পুরোহিত ” ছেলেটা মুসলমান, পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে,,, কিন্তু প্রত্যেকবার অজ্ঞান হবার পর ভয়ংকর ভাবে কাপতে কাপতে জড়ানো গলায় চিৎকার করে যখন ও এই শব্দগুলো বলত,আশেপাশের লোকদের বিস্ময়ের সীমা থাকত না,,,, কলেজ কর্তৃপক্ষ এসব জিনিসে বিব্রত হতে লাগল,,, তারা ছেলেটির মা বাবাকে ডেকে পাঠাল,,, বলল,, ছেলেটাকে ভাল চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে,,,ততদিন কলেজ ওকে ছুটি দিবে,, নইলে ছেলেটা এর সাথে সাথে অন্য ছাত্র ছাত্রী দের ডিস্টার্ব করবে।

সেদিনই যখন ছেলেটার মা বাবা ছেলেটাকে নিয়ে বাসায় যাবে,ঠিক সে মুহূর্তে একটা ঘটনা ঘটল যাকে যুক্তিবাদী মন বিশ্বাস করবে না। ওইদিন কলেজে ছেলেটি অজ্ঞান হয়ে গেল,,কিন্তু এই অজ্ঞানের সময় সে কাঁপল না,,সে চিল্লালোও না,,, আসলে তার এই প্রবলেমের জন্য সে ঠিকমত ঘুমাতে পারে না,,ঘুমের মধ্যেও তার খিচুনি ওঠে,,,, সেইসময় ছেলেটি ঘুমিয়ে গিয়েছিল কলেজে,,,, কিন্তু তারপরই ছেলেটি নিজেকে আবিষ্কার করল দোতলার একটা রুমে,,, যেখানে একটা কেরোসিনের ড্রাম রাখা,,যার একটি লিক থেকে কেরোসিন পুরো মেঝেতে ভেসে যাচ্ছে,,, ছেলেটি আশেপাশে তাকাল,,, রুমের দেয়ালে একটি আয়না,,,,আয়নায় সে নিজের চেহারা দেখল,,,, রুমের এক কোণায় একটি ছিড়ে যাওয়া তার ছিল,,সেখানে বিদ্যুৎ চলাচলের সময় স্পার্ক হচ্ছিল,,নিচে ফ্লোর ভর্তি কেরোসিন,,,, ছেলেটি আতংকে পাথর হয়ে গেল,,স্পার্ক নিচের কেরোসিনে লাগলেই তো বিস্ফারণ হবে,,বিস্ফোরণ হলে পুরো রুম ধসে পড়বে,, রুমের নিচেই ওদের ক্লাসরুম,, ক্লাস ভর্তি শিক্ষার্থীরা,,,, আতংকে তার মুখ থেকে অস্ফুট চিৎকার বের হল,,,এক ঝাকুনি দিয়ে তাকে কি যেন পিছনে টানল,, টানতে টানতে বাতাসের মত ও কিসের মধ্যে যেন ঢুকে গেল,,,,

যে জিনিসটার মধ্যে ও ঢুকে গেল,সেটা ছিল ওরই দেহ,,, ওই রুমটার নিচের ক্লাসরুমে,,,, ওর মাথায় হয়ত পুরো জিনিসটা ঢোকে নি।ও হয়ত বুঝলও না ঘুমের পর ওর আত্মা ওর শরীর থেকে বের হয়ে গিয়েছিল,, গিয়েছিল দোতলার সেই রুমটাতে,,, যেটাকে নরমাল মানুষ স্বপ্ন বলে,,,,, ও হয়ত চিৎকার দিয়েছিল,,যেটা শুনে পুরো ক্লাস চমকে গিয়েছিল,,বিরক্ত ভরে তার দিক চাইতেই সে বলল,,, “আগুন লাগবে,,, উপরের রুমে,,, কেরোসিন,,,, ” সবাই চমকে উঠল,, এদিক ওদিক চাইল,,হঠাৎ উপরে এক পিয়নের চিৎকার শোনা গেল,,,,”আগুন লাগবে,,আগুন,,, নিচ থেকে সবাই বের হন,,,” হুড়মুড় করে পুরো ক্লাস বের হয়ে গেল,,এক মুহুর্ত পর উপরের রুমে একটা বিস্ফোরণ হল,,আর পুরো রুমটা নিচের ক্লাসরুমে ধসে পড়ল। সবাই নিজেদের ভাগ্য চিন্তা করে আবেগাপ্লুত হয়ে গেল,,, কিন্তু একটুপর সবার মনে হল,,, এই ছেলেটা কেমনে জানল??? ছেলেটাকে এরপর থেকেই সবাই ভউ পেতে লাগল,,,

স্বাভাবিকের মধ্যে কিঞ্চিত অস্বাভাবিকত্ব কে ভয় পাওয়া মানুষের স্বভাব,,,, তবে সেদিন থেকে ছেলেটা বাড়ি চলে আসল,,, সবচেয়ে ভয়ংকর ঘটনাগুলোর সাক্ষী হতে লাগল বাড়ির লোকেরা,,, একদিন ছেলেটার মা সকালে ছেলেটাকে ঘুম থেকে উঠাতে এসে দেখে,,ছেলেটার নাড়িতে কোন সাড়া নেই,,, মা তো আর্তনাদ করতে লাগল,,, কিন্তু একটুপর ছেলে জেগে উঠল,,, বলল,, “মা,বাড়ির পিছনের দীঘিটা সকালে খুব সুন্দর লাগে দেখতে,,,,” প্রতিবেশীরা মাকে জিজ্ঞেস করতে লাগল,,, “ভাবি,আপনার ছেলে অত সকালে দীঘির পাড়ে করে কি???”
মা চমকে ওঠে,,, এটা কিভাবে সম্ভব,,,, ছেলেটা আস্তে আস্তে বুঝতে পারে সে স্বপ্নে কোন অবাস্তব জিনিস দেখে না,, বাস্তব জিনিস দেখে,,, এবং সে সময় সে ওইখানে সশরীরে বা অশরীরে উপস্থিত থাকে,, স্বপ্নের স্থানের মানুষগুলো দেখে তাকে,,, কিন্তু তার দেহটা পড়ে থাকে তার বিছানায় প্রাণহীন অবস্থায়,,, যখন ঘুম ভাঙে,,একটা পশ্চাৎমুখি আকর্ষণ তাকে তার শরীরে ফিরিয়ে আনে।,,, তার ধারণা যে সত্যি এর ভয়ংকর প্রমাণ একদিন সে এবং তাদের কাজের মেয়ে পায়,,

ছেলেটা সেদিন বিকালে ঘুমে স্বপ্ন দেখে,,সে তার নিজের রুমে পায়চারি করছে,, কিন্তু বিছানার দিক ফিরতেই নিজের নিসাড় দেহটা দেখতে পায় সে। ঠিক সে সময় ওদের কাজের মেয়ে ওর রুমটা ঝাড়ু দিতে আসে,,, মেয়েটা ঘরে ঢুকেই বজ্রাহতের মত একবার তার দিকে দেখে,,তারপর বিছানায় তার নিসাড় দেহটা,,, মেয়েটা একটা চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়,,,আর সেই পশ্চাৎমুখি আকর্ষণ তাকে তার দেহে পৌছে দেয়।

ডাক্তাররা এই ঘটনা বিশ্বাস করে না,, বাবা মা কি করবে বুঝতে পারে না,। তার বাবা মা সিদ্ধান্ত নিল,ছেলেটাকে তারা কক্সবাজার এ একটা রেস্টহাউজে পাঠাবে,,,হয়ত এই শহরের গুমোট পরিবেশ তাকে অসুস্থ করে ফেলছে,কিন্তু যে ঘটনা তারা প্রত্যক্ষ করেছে ছেলেকে নিয়ে,তার ব্যাখ্যা কি তারা দিতে পারবে?

ছেলেটা ঘুমিয়ে গেল তার বেডরুমে,,খুব ক্লান্তি লাগে তার আজকাল,,, ছেলেটা এই অসুস্থ হবার অনেকে আগে একটা নির্দিষ্ট স্বপ্ন দেখত,,,স্বপ্নে কিছু খণ্ড খণ্ড ছবি দেখত সে,,, সাগরপাড়,, একটা জনপদ,,, একটা মন্দির,,ভিতরে কালীমূর্তি, সামনে একটা যূপকাষ্ঠ,,, যূপকাষ্ঠে রক্ত লাগা,,টাটাকা রক্ত,,,, গেরুয়া চাদর পড়া নিরীহ চেহারার কিছু লোক,,,ভাল পুরোহিত,,, গেরুয়া চাদর পড়া কিছু ভয়ংকর মানুষ,,, খারাপ পুরোহিত,,,, আর একটা মেয়ে,, লালচুলের একটা মেয়ে,, ঘাড়ে স্কার্ফ,, একটা সাদা গেনজি,,আর একটা লং স্কার্ট,,, পিছন ফিরে আছে,,,, হঠাৎ সব ঝাপসা হয়ে যায়,,,,

কে যেন বিদেশি টানে বলে,, “আসো,,আসো,, প্লিজ আমাকে বাচাও,, মন্দিরের কাছে আসো,,, ভালো পুরোহিতদের আগুনে পুড়াচ্ছে,,, খারাপ পুরোহিতরা খড়্গ হাতে,,রক্ত মেখে দাঁড়ানো,,,, প্লিজ বাঁচাও,, প্লিজ,,,” ছেলেটা ছোটবেলা থেকে এই স্বপ্নটাই দেখত,,, অসুস্থ হবার পর জড়ানো গলায় এগুলোই বলত,, আজ সে কক্সবাজারে যাবে,,, স্বপ্নে আজ সেই লাল চুলো মেয়েটা আবার আসল,,, স্কার্ফ দিয়ে দুহাতে নিজের মুখ লুকানো,,, নীলচোখের অসহায় ভীত দৃষ্টিতে সে ছেলেটার দিকে তাকাল,,,, ছেলেটার ঘুম ভেঙে গেল,,, ছেলেটা আলোকিত একটা রুমে বসা,,,বাইরে সাগরের ঢেউয়ের আছড়ে পড়ার শব্দ,, ঘুমের মধ্যেই বাবা মা নিয়ে এল নাকি আমাকে কক্সবাজার?

ছেলেটা আস্তে আস্তে রুমের ভিতরে পায়চারি করতে লাগল,,,বারবার বিছানার দিক তাকাল,,আবার সে টেলিপ্যাথি করছে কিনা সে ব্যপারটা বুঝতে,,, নাহ,,সবই বাস্তব বাস্তব মনে হচ্ছে,,, মনে হচ্ছে এখানে সে আগেও এসেছে,,, বেশ কিছুক্ষণ পর তার মনে হল তার বাইরে বের হওয়া উচিত। সে বের হল বাইরে। সে একটা দোতলা বাড়িতে আছে,,সামনেই সৈকত, তারপর অথই সাগর,,পিছনে পাহাড় আর জঙ্গল,, আশেপাশে কোন জনমানব নেই। ছেলেটা তার রুমে ফিরল,তার লাগেজ চেক করতে লাগল,,, অনেক পুরনো একটা লাগেজ পড়ে আছে সেই রুমে,কিন্তু তার বলে মনে হচ্ছে না,,, কিছু একটা ঘটছে তাকে ঘিরে,,, কি ঘটছে তা সে জানে না। ছেলেটা বাড়ির সামনে রাস্তায় বেড়িয়ে পড়ল,,হাটতে লাগল। সৈকত ধরে এক মাইল হেটেও সে একটা মানুষও দেখল না,,,দুনিয়ায় যেন সে একা,আর কারো কোন অস্তিত্ব নেই। হঠাৎ তার মনে হল সামনে একটা জনপদ আছে।সে হাটার গতি বাড়িয়ে দিল। অবশেষে সে লোক দেখতে পেল।

সাগরপাড়ের বাজার একটা, মানুষজন গিজগিজ করছে,,, কিন্তু কোথায় যেন একটা অস্বাভাবিকতা আছে। মানুষজন যে পোশাক পরেছে,সেটা কোনভাবেই এযুগের না,,, ৩০০ বছর আগের। ছেলেটা তটস্থ হয়ে দাড়াল,,এটা নিশ্চয়ই স্বপ্ন,,এখনি ঘুম ভাঙবে।সব স্বাভাবিক হবে। ছেলেটার কাছে সবই বাস্তব বলে মনে হচ্ছে,স্বপ্ন তো সাদাকালো হয়,এগুলো তো রঙিন। ছেলেটা মানুষজনের কাছে গেল,তারা তো বাংলাই বলছে,কথাগুলো স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে,বোঝা যাচ্ছে। সে একজনকে কিছু বলার চেষ্ট করল,,লোকটা ভ্রূক্ষেপ করল না। এমন তো হবার কথা না,,তার স্বপ্নে তো তাকে মানুষজন দেখতে পায়,,এই লোক শুনছে না কেন কথা?? ছেলেটা লোকদের সামনে হাত নাড়াল,চিল্লাল,,,কারো কোন বিকার নেই।কেউই তার উপস্থিতি টের পাচ্ছে না। ছেলেটা আতংকে নীল হয়ে গেল। তার জ্ঞানবুদ্ধি লোপ পাচ্ছে,সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল। সে মানুষজন থেকে ধীরে ধীরে পিছাতে লাগল। হঠাৎ পিছন থেকে কে একজন বিদেশী টানে পরিচিত কন্ঠে বলল,,”এই যে,শুনছেন? ” কন্ঠটা খুব পরিচিত ছেলেটার,,এই কন্ঠটা সে ছোটবেলা থেকে স্বপ্নে শুনে আসছে।সে ঘুরে তাকাল,,,, লাল চুলের অপূর্ব রূপসী এক ব্রিটিশ মেয়েকে দেখা গেল। চোখের মণিদুটো নীল তার,,সেই নীল চোখ,,যা ছেলেটাকে প্রতিরাতে দেখা দিয়ে যায়।

ছেলেটা মুগ্ধ হয়ে মেয়েটাকে দেখতে লাগল।মেয়েটা মুচকি হাসল,,, “শুনছেন” ছেলেটা বোকার মত পিছে চাইল,,, মেয়েটা বলল,,”পিছনে চাইছেন কেন? আপনাকেই বলছি” ছেলেটা তো অবাক,এতক্ষণ ধরে কোন লোক তার উপস্থিতিই বুঝল না,,এই মেয়েটা কিভাবে বুঝছে?? হচ্ছেটা কি? মেয়েটা ধীরে ধীরে কাছে আসল,,,,বলল,”আসলে আপনি তো শার্ট প্যান্ট পড়া,,তাই ভাবলাম আপনি মে বি কোম্পানির লোক,,, এখানকার মানুষেরা তো শুধু পাঞ্জাবি, পায়জামা, অথবা হিন্দু হলে ধুতি পড়ে।”

ছেলেটা কি বলবে বুঝল না,,, মেয়েটা বলল,,,”আসলে কোম্পানি কে এরা ঘৃণা করে তো, সাদা,চামড়া দেখতে পারে না,,মানুষ দূর দূর করে,,কথা বলার লোক পাই না,,,অথচ চিন্তা করেন,এদের সাথে যেন সহজে মিশতে পারি তাই ২ বছর কষ্ট করে বাংলা শিখেছি,,,” ছেলেটা এখনো চুপ। মেয়েটা বলল,,, “আজব তো,,কিছু বলছেন না কেন?অবভিয়াসলি আপনি কোম্পানির লোক,হেয়ার স্টাইলও আমাদের ব্রিটিশদের নকল,,এদেশে তো আপনারা বাবরি চুল রাখেন,,,আপনি হা করে আছেন কেন?”

ছেলেটা তুতলিয়ে বলল,,”আমি না কিছু বুঝছি না,,,,” “কি বুঝছেন না??? নিজের ভাষা ভুলে গেছেন? ইংলিশ চলবে?” ছেলেটা বলল,, “আপনি কে??”

মেয়েটা বলল,,, “আমি এমিলি সন্ডার্স,,লন্ডন গেজেটের রিপোর্টার,,,আমি উপমহাদেশে এসেছি সাগরপাড়ের মানুষ সম্পর্কে আর্টিকেল লিখব,,বিশেষ করে আরাকান এর পশ্চিমের লোকদের,,,”

ছেলে বলল,,
“লন্ডন গেজেট তো ৩০০ বছর আগের পত্রিকা,,,” এবার মেয়েটা বিস্ময়ে হা করে রইল,,, “আপনি কি মজা করছেন আমার সাথে?
দেখুন আমি কিন্তু কোম্পানির গেস্ট,,আমার সাথে মজা করেন না,,আপনার চাকরি যেতে পারে,,,” ছেলেটা বলল,,”আরে কিসের কোম্পানি??? কিসের চাকরি??? কেউ কি আমাকে বলবে এখানে হচ্ছেটা কি???”

ছেলেটা চিৎকার করে কথাগুলো বলল,, মেয়েটাও অবাক হয়ে গেল,, কিন্তু আশেপাশের লোক ফিরেও তাকাল না,,, মেয়েটা বলল,, “আপনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির লোক না???”
ছেলেটা কি বলবে বুঝল না,, এটা কি কোন কৌতুক??? “ম্যাডাম,ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ৩০০ বছর আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে,, আর আরাকান বলে এখন কিছু নেই,,, এটাকে এখন মিয়ানমার বলে,, আর এদেশ কে উপমহাদেশ বলা হয় না,, এটা বাংলাদেশ,,,আর এই জায়গাটা কক্সবাজার,, আমি যতদূর জানি,,কারণ আমার বাবা মা আমাকে সুস্থ করার জন্য কক্সবাজার এ পাঠাতে চাচ্ছিলেন। ” মেয়েটা এমনভাবে তার দিকে এবার তাকাল,যেন মনে হচ্ছে ছেলেটা পাগলাগারদ থেকে পালিয়ে এসেছে,,,

ছেলেটা ভ্রূক্ষেপ না করে বলল,”আপনার মোবাইলটা আমি একটি ইউজ করতে পারি??? বাসায় একটু ফোন দিব?”
মেয়েটা বলল,, “মোবাইল কি জিনিস?”
ছেলেটা পিছিয়ে গেল মেয়েটার কাছ থেকে,,মেয়েটা ছেলেটার কাছ থেকে,,, দুইজন দুইজনকে পাগল ভাবতে শুরু করছে,,পার্থক্য হল,, ছেলেটা যে এখানে উপস্থিত সেটা,আশেপাশে কোন লোক বুঝতেই যেন পারছে না,,, কিন্তু মেয়েটার দিকে লোকজন ঘৃণাভরে তাকাচ্ছে। ছেলেটাকে কেউই দেখতে বা শুনতে পারছে না,,মেয়েটা সাদা বলে মানুষজন ঘৃণা করছে,,,পরস্পরকে তাদের প্রয়োজন, এটা যেন তারা বুঝে গেল,,,

তাই শত সংশয় হলেও তারা আবার মুখোমুখি এসে দাড়াল,,,, মেয়েটা বলল,, “আমার জাহাজ ৩ মাস আগে আমাকে এখানে নামিয়ে দিয়ে গেছে,,,আরো ৩ মাস লাগবে আসতে,,,এই ৩ মাস আমার এখানে বসে এই লোকদের জীবনযাত্রা নিয়ে আর্টিকেল লেখা লাগবে। আমি বুঝতে পারছি আপনি মজা করছেন আমার সাথে,,কিন্তু আপনাকে আমার লাগবে,,, প্লিজ আমাকে একটু হেল্প করেন,,, লন্ডন গেজেট গত মাসে কোম্পানিকে ইনসাল্ট করেছে বলে আমার প্রতি তারা আন্তরিক না,,, আমার খুবই একা কষ্টে দিন কাটছে এখানে,,,, “

ছেলেটা খালি জিজ্ঞেস করল,,,” এটা কত সাল???”
মেয়েটা অবাক হয়ে জবাব দিল,,”১৮৪৯ সাল”
ছেলেটা ধুপ করে মাটিতে বসে পড়ল,,,
তার,সেই কলেজের আগুন লাগার স্মৃতি মনে হতে লাগল,,, এবার হয়ত অতিরিক্ত কিছুতে মোড় নিয়েছে তার বিদঘুটে অসুখ টা। এমিলি তার দিকে আসতে লাগল,বলল, “আপনি কি অসুস্থ?” ছেলেটা ভাবল ও যে ২০১৬ সালের লোক,এটা একে বললে সে আরো পাগল ভাববে,তারচেয়ে বরং চুপচাপ থেকে পরিস্থিতি বুঝার চেষ্টা করা যাক। সে বলল,,”না,আমি ঠিক আছি,,,”
এমিলি বলল,”আপনি কোথায় থাকেন?”
ছেলেটা বলল,,”আমি এখানে থাকি না,আমি বেড়াতে এসেছি,যাদের সাথে এসেছি,তারা আমাকে রেখে চলে গেছে,,আমি অসুস্থ হয়ে গেছি,,জ্বর হয়েছে,,,”

এমিলি তার গায়ে হাত দিতে চাইল তাপমাত্রা দেখতে,,,ছেলেটা সভয়ে পিছিয়ে গেল,,, ধরা পড়া যাবে না,তাকে মেয়েটা পাগল ভাবছিল,এটাকে জ্বরের প্রলাপ বলে চালিয়ে দিলে অনেক প্রশ্ন থেকে বাঁচা যাবে,কিন্তু গায়ে হাত দিলে তো বোঝা যাবে তার জ্বর নেই। তাই সে বলল,, “আমি মুসলমান, পরনারী স্পর্শ করলে পাপ হবে” এমিলি মুচকি হাসল,, তারপর বলল,,”যেহেতু গত ৩ মাসেও একজনও আমার সাথে কথা বলে নি,আজ আপনি প্রথম আমার ডাকে সাড়া দিলেন,আপনি উদ্ভট হলেও চলবে,,আপনি আমার সাথে চলুন,, আপনি তো এদেশেরই লোক,,আপনি আমাকে আপনাদের জীবনধারা সম্পর্কে বলবেন,আর এখানকার লোকরা যেন আমার প্রতি সহজ হয়,সে ব্যবস্থা করবেন,,, আমি আপনি সুস্থ হবার আগ পর্যন্ত আমার বাসায় আপনাকে থাকতে দেব।”
ছেলেটা ভাবল,এতো মহাঝামেলা,,,
সে তো জীবনযাত্রা জানে ২০১৬ সালের,এখনকার জীবনধারা সম্পর্কে কেমনে জানবে,,???
যাই হোক, সে মেয়েটার সাথে গেল,, সবচেয়ে আজব ব্যাপার হল,,তার আজ সকালে যে বাসায় ঘুম ভেঙেছে,,মেয়েটা তাকে সেই বাসায় নিয়ে এল,এবং সেই রুমেই থাকতে দিল,,,তারপর সেই লাগেজটা নিয়ে তার নিজের রুমে চলে গেল। এমিলির সাথে কথা বলে জানল,সে কলেজে খুব ভাল স্টুডেন্ট ছিল,, কিন্তু তাদের পরিবারের অবস্থা ভাল ছিল না,,, লন্ডন গেজেটে সে জুনিয়র রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেয়,তার স্বপ্ন ছিল ডাক্তারি পড়ার,কিন্তু তাদের অত টাকা নেই,তাই সে পত্রিকায় কাজ করে টাকা জমাচ্ছে ডাক্তারি পড়বে বলে, এদিকে তার কিছু কিছু রিপোর্টের দরুন পত্রিকা অফিস তাকে খুব ভাল নজরে দেখে,,,তাকে তাই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে এদেশের দক্ষিণাঞ্চলে মানুষের কি অবস্থা সে ব্যপারে বিস্তারিত জানতে পাঠানো হয়েছে,,এই রিপোর্ট ঠিকমত লিখতে পারলে তার ডাক্তারিতে ভর্তির খরচ উঠে যাবে,,তার স্বপ্ন পূরণ হবে।

ছেলেটি এমিলির কথা শুধু শোনে,,আর মুগ্ধ হয়,,, তার যত কনফিউশন আছে,সব যেন চলে যায় এমিলির মুখের দিক তাকিয়ে,,আরো আজব হয় এই মেয়েটাকে সে তার সারাজীবন ধরে স্বপ্নে দেখে আসছে,,গত তিনমাস বাদে,,তার অসুস্থতা আসার পর মেয়েটাকে অনেকদিন সে দেখে নি। আজ একদম জলজ্যান্ত সে তার সামনে বসে আছে। ছেলেটার খুব ইচ্ছা হল,তাকে ছুয়ে দেখার,, ব্রিটিশ মেয়ে,,অজানা অচেনা একটা ছেলেকে কয়েকমিনিটের পরিচয়ে নিজের ঘরে আনতে তার সন্দেহ হয় নি। কিন্তু ছেলেটা তার বিশ্বাসে ঘা দিয়ে তার মনে সন্দেহ আনতে চায় না। ছেলেটা এমিলিকে ইতিহাস এর বইয়ে যা যা পড়েছিল,,যা যা তার মনে আছে সব বলতে লাগল,, কিন্তু সাবধান থাকল যেন সেগুলো কোনভাবেই ১৮৪৯ সালের পরে না যায়,,, তবে এরপরের কিছু জিনিস যেমন ১৮৫৭ সালে যে সিপাহি বিদ্রোহ হবে সেটা সে তার বক্তব্যের মধ্যে হালকা ভবিষ্যৎবানী বলে চালিয়ে দিল,,, ৭ বছর পর যখন এমিলি দেখবে তার কথা সত্যি,, তার মুখের যা অবস্থা হবে সেটা ভেবেই হাসি পাচ্ছে তার।

ওদিকে এমিলি তো হা করে গিলছে তার কথাগুলো, কর্ণওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কিভাবে প্রভাব ফেলেছে এদেশে,, নীলকররা কিভাবে অত্যাচার করছে এদেশের মানুষের উপর,সাদা চামড়াদের এদেশের মানুষ কেন এত ঘৃণা করে সেটা বুঝল সে,,, ছেলেটা ইতিহাস বই এ যা যা পড়েছে,যা ছিল সত্যি ঘটনা,সেগুলোই বর্তমানে এমিলি তার লেখায় লিখল। এই ৩ মাসে প্রথম একটা আর্টিকেল তৈরি করল সে।এটা ছিল এমিলি সন্ডার্স এর লেখা “The Company reign in south of Bengal” আর্টিকেলের প্রথম কিস্তি।

১৮৪৩ সালে ফ্যাক্স মেশিন আবিষ্কার হয়ে গেছে তখন, এমিলি ফ্যাক্সে করে তার লেখা পাঠিয়ে দিল লন্ডনে ফ্যাক্সে করে। সেই আর্টিকেলের প্রথম কিস্তি পুরো ইংল্যান্ড কাপিয়ে দিল। কোম্পানির এদেশীয় দের উপর অত্যাচারের বর্ণনা জানল সবাই। সমালোচনায় ফেটে পড়ল তারা। ওদিকে পত্রিকা অফিসে তো এমিলির জয়জয়কার।আর উপমহাদেশে কোম্পানির লোকেরা এমিলিকে শাসিয়ে গেল খুব। এসব ঘটনা ঘটতে ঘটতে ১ মাস প্রায় হয়ে গেছে। ছেলেটা আর এমিলির ঘনিষ্ঠতা আরো বেড়েছে।ছেলেটার কাছ থেকে এমিলি ইতিহাসের সেই কাহিনীগুলো শুনে শুনে আরো কিস্তি লিখতে লাগল আর্টিকেলের। ছেলেটা এমিলিকে ভালবেসে ফেলেছে। সে ১৮৪৯ সালের এই দুনিয়াকেই ভালবাসতে শুরু করেছে। কারণ এতে এমিলি আছে,, ২০১৬ সালের স্মৃতি আস্তে আস্তে তার মন থেকে মুছতে শুরু করেছে। তবে ছেলেটা ঘুমাতে ভয় পায়। তার কাছে এখনো এই অলৌকিক ঘটনাটা স্বপ্ন স্বপ্ন লাগে। তার মনে হয় স্বপ্ন ভেঙে যাবে সে যখন ঘুমাবে। প্রতিভোর ঘুম থেকে উঠেই সবার আগে সে এমিলির রুমের সামনে যাত,দরজার ফাঁক দিয়ে দেখে এমিলি আছে কিনা। দেখে এমিলি ঘুমাচ্ছে। ওদিকে ছেলেটাও জানত না এমিলিও ওকে আস্তে আস্তে ভালবেসে ফেলছে,,, এটা সাদা চামড়াদের জাস্ট ভাললাগা ভালবাসা না। সেযুগে সাদা চামড়াদেরও মন বলে কিছু ছিল। এযুগের মত শরীরসর্বস্ব ভালবাসা ছিল না। এমিলি গত একমাসেই ছেলেটার প্রতি মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছিল। প্রেমে পড়ে যাচ্ছিল ছেলেটার সততা,ধর্মপালন, আর ছেলেমানুষির। ছেলেটা ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত,এমিলি দেখত তা,ছেলেটা মোনাজাতে এমিলিকে সারাজীবনের মত তার কাছে রাখার জন্য চাইত,সেটা অবশ্য এমিলি বুঝত না,শুনতও না। একদিন ছেলেটার সকালে ঘুম ভাঙল,দেখল দরজার কাঠে হেলান দিয়ে এমিলি তাকে দেখছে,,, বাইরের বাতাসে তার লাল চুল উড়ছে,,, সে মুচকি হাসছে,,তাকে মোহিনী লাগছে। ছেলেটা অবাক হয়ে গেল। এমিলি বলল,”তোমার ঘুম দেখছিলাম,, তোমাকে খুব সুন্দর লাগছিল,,,” ছেলেটা লজ্জা পেল।তা দেখে এমিলি বলল,”আচ্ছা,চল,আজ বাইরে বের হই, দেখি এখন মানুষজন আমার সাথে কথা বলে কিনা,,” ওরা রেডি হয়ে বাইরে বের হল,সেই বাজারের কাছে গেল,তার ভিতরে হেটে শহরে যাবে ঠিক করল। আজ সম্পূর্ণ ভিন্নচিত্র মানুষের। এমিলির আর্টিকেল পাবলিশ হবার পর কোম্পানি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যতদিন এমিলি এই দেশে থাকবে,মানে আর ২ মাস,,, ততদিন তারা নীলচাষ করবে না,এবং অত্যাচার করবে না,,তারা চায় না এমিলি আরো খারাপ কিছু লিখুক যাতে রাণী কোম্পানিকে বিলুপ্ত করে দেয়।

এদেশীয়রাও বুঝল,আসলে এমিলির জন্যই তাদের উপর অত্যাচার কমেছে।তারা এমিলিকে এসে ঘিরে ধরল,,, তাকে ধন্যবাদ জানাল,,, তাকে ঘিরে ওইদিন তারা অনুষ্ঠান করল। এমিলি তো অবাক,,, সে অনেক খুশি হল,এমিলিকে ঘিরে রাত অবধি শহরে অনুষ্ঠান হল। এমিলি ঘুরে ঘুরে ছেলেটাকে খুজল,,ছেলেটা অনেকক্ষণ ধরে আশেপাশে নেই,,এমিলি ব্যস্ত হয়ে পড়ল,,সবাইকে জিজ্ঞেস করল ছেলেটা কোথায়,,,,কেউই বলতে পারল না। ওদিকে ছেলেটা জানত, এমিলি ছাড়া কেউই তাকে দেখতে পারে না,শুনতে পারে না,,সবার কাছে সে অদৃশ্য,,, এখন এমিলি যদি সবার মাঝে তার সাথে কথা বলে,,সবাই ওকে পাগল ভাববে,,তাই সে দূর থেকে এমিলিকে দেখছিল। এদিকে এক ষোল বছরের মেয়ের সাথে এমিলির খুব খাতির হল অনুষ্ঠানে, মেয়েটার নাম নিবেদিতা। এই এলাকার এক পুরোহিতের মেয়ে,,ওদের পরিবারকে হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সবাই ভালবাসে,, সেই পুরোহিত আর তার কিছু শিষ্য এ শহরের মানুষের বিভিন্ন উপকারে এগিয়ে আসে। সব বিপদ আপদে পাশে দাঁড়ায়,স্বাভাবি কভাবেই সবাই তাদের পুরো পরিবারকে ভালবাসে। নিবেদিতার খুব ভাল লেগে গেছে এমিলিকে,, সে গল্প করছে এমিলির সাথে,, এমিলি তার সাথে কথা বলছে,,তার বাংলা উচ্চারণ শুনে নিবেদিতা হাসছে।বাংলার কিছু ভুল ধরিয়ে দিচ্ছে সে, যেটা ছেলেটা এতদিন ধরে করত। এমিলির যেন কোন আগ্রহ নেই। সে ছেলেটাকে খুজছে। নিবেদিতা বলল,, “কাকে খোজ?” এমিলি বলল,, “আমার সাথে একটা ছেলেকে দেখেছিলে? সুন্দর দেখতে,এদেশীয়ই,,শার্ট প্যান্ট পরে,,তোমাদের কাপড় পরে না। ছেলেটাকে পাচ্ছি না।” নিবেদিতা বলল,, “কই না তো,এমন কেউ তো এখানে থাকে না,,” এমিলি বলল,, “ও এখানের না,,ও উত্তর থেকে বেড়াতে এসেছে,,, ওর বন্ধুরা ওকে রেখে চলে গেছে,, ও আমার সাথেই থাকে,,, আমি ওকে ভালবাসি,,, ” নিবেদিতা বলল,, “এমন কোন লোক,বা তার বন্ধুরা এখানে বেড়াতে আসে নি এমিলি দিদি,,,,” এমিলি অবাক হয়ে একবার নিবেদিতার দিক তাকায়,,, তখনি তার চোখে পড়ে ছেলেটাকে,, সে দৌড়ে তার কাছে যায়,,,বলে,, “কই ছিলা সারাদিন? তোমাকে খুজছি কখন থেকে,,,,” নিবেদিতা এমিলিকে দূর থেকে দেখতে থাকে,,, এমিলি অন্ধকারে একদম ফাঁকা একটা জায়গায়,,শূন্যের দিক তাকিয়ে কথা বলছে,,, নিবেদিতা ভয় পায়,,এমিলির উপর কি কোন প্রেতাত্মার নজর পড়ল??? সে ছুটে যায়,এমিলির কাছে,,তার হাতে একটা কবচ আছে যেটা থাকলে ভূতপ্রেত থাকে না পাশে,,,, সে এমিলিকে বলে,, “কই তোমার সে ভালবাসার মানুষ??” এমিলি হিসহিস করে বলে,,, “চুপ,,আমি ওকে এখনো বলি নি,,,,” ছেলেটার তখন আনন্দে নাচতে ইচ্ছা করছে,,এমিলিও ওকে ভালবাসে,,, নিবেদিতা এমিলিকে জিজ্ঞেস করে,,”কই সে???”

এমিলি ছেলেটার দিক তাকিয়ে বলে,”এই তো” নিবেদিতার হাতে কবচ,তারপরও যায় নি এটা??? নিবেদিতা অবাক হয়,, এটা কি অনেক শক্তিশালী ভূত? নিবেদিতা যখনই বলতে যাবে এমিলিকে, যে সে ছেলেটাকে দেখতে পাচ্ছে না,,তখনই পাশের জঙ্গলে একটা চাপা কান্না শোনা গেল একটা মেয়ে কণ্ঠের,,,,আর মানুষ এর চলার শব্দ। এমিলি,নিবেদিতা,আর ছেলেটা শব্দ লক্ষ্য করে এগোতে লাগল,,, দেখল, গেরুয়া পোশাক আর কপালে লাল টিকা দেওয়া কিছু লোক দ্রুত হেটে যাচ্ছে,,, তাদের কাধে একটা ১৬/১৭ বয়সের মেয়ে,,, তারা যাচ্ছে সামনে,,,মেয়েটা কাঁদছে। নিবেদিতা বলল,, “এ তো দুর্গা,,আবার বান্ধবী,, আর এরা তো আমাদের পুরোহিত,,আমার বাবার শিষ্য ছিল,,, এরা কোথায় যাচ্ছে???” ওরা ওদের পিছু নিল,,,জঙ্গল এর একদম মাঝে একটা নির্জন জায়গায় এরা এল,,এখানে একটা কালি মন্দির,,, প্রতিমাটা তারা দেখতে পারছে,,,, ওরা দুর্গাকে সেই মূর্তির সামনে ফেলে দিল,,,, একটা লোক সামনে এগিয়ে গেল,,, নিবেদিতা এমিলিকে জানাল,, এই লোকটার নাম কালীচরণ। কালীচরণ মূর্তির সামনে দাড়াল,, হাতজোড় করে বলল,, “মা, সাদা চামড়ারা এই দেশে আমাদের উপর অত্যাচার করছে,, কেউ তাদের বিরুদ্ধে কিছু করছে না,,, আমরা এত পূজা দিচ্ছি,তারপরও তাদের কিছুই হচ্ছে না,, আমার মনে হয় গুরু রামপ্রসাদ এর পূজায় তুমি সন্তুষ্ট না। তাই আমি আজ তোমাকে সন্তুষ্ট করব,,, তোমাকে কুমারী রক্ত উৎসর্গ করব,,, এই রক্ত নিয়ে সাদা চামড়াদের এই দেশ থেকে তাড়াও, মা,,” এই বলে সে দুর্গাকে যূপকাষ্ঠে চড়াল,,, মাথায় সিদুর,আর চন্দন ঢালল,,, তারপর মন্ত্র পড়তে লাগল,,, তারপর খড়্গ হাতে নিল,,,, আশেপাশের অন্যান্য পুরোহিতদের মশালের আলো পড়ে সে খড়্গ চকচক করছে,,,, কালীচরণ খড়্গ নামিয়ে দিল দুর্গার গলায়,,, মাথা ছুটে গেল,,রক্ত ফিনকি দিয়ে ছুটে বেদি ভিজিয়ে দিল,,,, নিবেদিতা একটা চিৎকার করতে গেল,,, এমিলি ওর মুখ চেপে রাখল,,,, এমিলি নিবেদিতাকে নিয়ে ওর বাড়ি চলল,,, নিবেদিতা থরথর করে কাঁপছে,,, নিবেদিতার বাবা গুরু রামপ্রসাদ দরজা খুলল,, ওরা সবাই ভিতরে গেল,,, নিবেদিতা তার বাবার বুকে ঝাপিয়ে পড়ে কাঁদতে লাগল,,সব ঘটনা খুলে বলল,,,, গত কয়েকবছর ধরে প্রতি অমাবস্যায় এখান থেকে একটা করে কুমারী মেয়ে অপহৃত হচ্ছিল। আজ রামপ্রসাদ তার কারণ জানলেন। শুনে রাগে ফেটে পড়লেন,,, সবাইকে তিনি জড় করলেন সেখানে,,, নিবেদিতা আর এমিলি যাদের যাদের সেখানে দেখেছিল সবাইকে ওখানে আনা হল,,,,

কালীচরণ অগ্নিদৃষ্টিতে এমিলি আর নিবেদিতার দিক তাকিয়ে রইল। রামপ্রসাদ বলতে লাগলেন,,”তুই পাপিষ্ট কালীচরণ,,তুই মহাপাপী,, তুই কি করেছিস তুই জানিস??? তুই মায়ের সামনে তার সন্তানের রক্তপাত করেছিস,,তুই ভেবেছিস এতে মা খুশি হন।। আমি এখন বুঝছি,কেন আমার পূজা বৃথা যায়,,,তুই পাপিষ্ঠ আমার পিছনে এসব করিস???? তুই যা করলি তা হিন্দুশাস্ত্র বিরোধী,, তুই যা করলি এটা পিশাচের উপাসনা,,আমার মন্দিরে তোর স্থান নেই,,ব্রাক্ষ্মণ হত্যা মহাপাপ, তাই আমি তোকে প্রাণে মারব না,,, এই তোরা কে কোথায় আছিস,এর মাথা কামিয়ে আলকাতরা মেখে দে,,,” কালীচরণ বলতে লাগল,,, “আপনি আমার গুরু হতে পারেন,কিন্তু আপনি আমার চেয়ে কম জানেন,,, আমি যা করেছি এটাই সঠিক,,, আপনার পূজায় মা সন্তুষ্ট না,,, মা রক্ত চায়,,রক্ত,,,,” রামপ্রসাদ ঘৃণাভরে অন্যদিকে মুখ ফেরালেন,, কালীচরণ আর তার দলকে মাথা মুড়িয়ে,উলঙ্গ করে পুরো শহর ঘুরাতে লাগল,,,, কালীচরণের চোখ সাপের মত শীতল থেকে শীতলতর হতে লাগল।। ছেলেটার বুকটা হিম হয়ে গেল,,, তার স্বপ্ন টা মনে পড়তে লাগল,, এমিলি যেন চিৎকার করছে,, “বাঁচাও,প্লিজ আমাকে বাঁচাও,,,,” ছেলেটা এমিলিকে ওখান থেকে সরে আসতে বলল,,, এমিলি তো নিবেদিতাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে তখন,,তাও ছেলেটার পিছ পিছ সে গেল,,,

এমিলি বলল,, “কি হয়েছে??” ছেলেটা বলল,, “এমিলি,,তুমি এখান থেকে পালাও,,, কালীচরণ এর প্রতিশোধ নেবেই,,আমার মন বলছে ও ফিরবেই,,” এমিলি বলল,, “এত অপমানের পর এখানে ফিরতে পারে না সে,,তাকে কেউ আশ্রয় দিবে না,,সে অনেক মায়ের বুক খালি করেছে,,,,” ছেলেটা বলল,, “এমিলি,,আমি জানি,ও ফিরবে,,আমি জানি ও তোমাকে সবকিছুর জন্য দায়ী করছে,,ও তোমার ক্ষতি করবে,,প্লিজ জানতে চেও না আমি কিভাবে জানি,,, শুধু এতটুকু জানো,আমি তোমাকে হারাতে পারব না,,,আমি তোমাকে ভালবাসি,,, ” এমিলি তার অসাধারণ নীল চোখ দুটো দিয়ে ছেলেটাকে দেখতে লাগল,,, মুচকি হেসে বলল,, “আমিও ” ছেলেটার তখন এবিষয়ে মন নেই,, সে বারবার রিকুয়েস্ট করতে লাগল,এমিলি যেন তার সাথে চলে আসে,,, অগত্যা এমিলি ছেলেটার পিছ পিছ তাদের বাসায় চলে এল। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই রামপ্রসাদ, তার পরিবার নিয়ে এমিলির বাসায় আসতে লাগল,,, নিবেদিতা তো প্রতিদিন দুইবার করে আসে,,, ওরা যখন আসে, তখন ছেলেটা বের হয়ে যায় বাসা থেকে,, এমিলিকে বিব্রত করতে চায় না সে। এমিলি রামপ্রসাদের পরিবারের কাছে তার ভালবাসার মানুষের বর্ণনা দেয়,,তারা তাকে দেখতে চায়,,কিন্তু এমিলি একদিনও তাকে দেখাতে পারে না,,, নিবেদিতা জানে,ছেলেটার অস্তিত্ব নেই,,সে এমিলির ই কোন কল্পনা,,কিন্তু এমিলিকে সে কষ্ট দিতে চায় না,,তাই চুপ করে থাকে। রামপ্রসাদ বলে, “তোমরা একসাথে থাকছ যখন বিয়ে করে নিচ্ছ না কেন?” এমিলি বলে,,”ও মুসলমান,, এখনই ওকে বিয়ে করতে পারব না আমি,,আগে আমাকে মুসলমান হতে হবে,, তারপর ওকে বিয়ে করে ওকে নিয়ে আমি ইংল্যান্ড চলে যাব।”

আরো দুইমাস এভাবে কেটে যায়,, ছেলেটার মনের কুডাক আরো বাড়ে,, বারবার ভয় হয়,, এই বুঝি কালীচরণ এল,এই বুঝি এমিলির কোন ক্ষতি করল। অবশেষে এমিলির জাহাজ আসার সময় হল,,আর ৩ দিন বাকি,,, সে ছেলেটাকে বলতে গেল,সে মুসলমান হতে চায়,আর তাকে বিয়ে করে তাকে নিয়ে ইংল্যান্ড যেতে চায়,,, তখনই শহর থেকে হন্তদন্ত হয়ে একটা লোক এল,হাপাতে হাপাতে সে বলল,, কালীচরণ ফিরে এসেছে,,সে রামপ্রসাদ এর পরিবারকে বন্দি করেছে,,, এমিলি সাথে সাথে দৌড়ে গেল সেখানে,ছেলেটার বাধা সে শুনল না,,দৌড়ে গেল সে রামপ্রসাদের বাড়ি,,, দেখল,রামপ্রসাদ আর তার অনুগামী শিষ্য আর তাদের পরিবারকে বেধে রেখেছে কালীচরণ,,,, সে উপস্থিত সবাইকে বলতে লাগল,,” ভাইসব,,মা আমাকে স্বপ্নে দেখিয়েছে,সে বলছে আমাকে,এই রামপ্রসাদের উপর রুষ্ঠ সে খুব,,তার পূজায় মা বিরক্ত হয়,তাই সে আমাদের দিকে কোন সুনজর দেয় না,,আমাদের কথা শোনে না,,আর আমাকে অপমানের পর তো মা চরম রুষ্ট,,, সে চায়,এই রামপ্রসাদ আর তার অনুগামী, আত্মীয় সবাইকে আগুনে পুড়ানো হোক,,, তাহলেই মা আমাদের শান্তি দিবে,,, তোমরা সবাই বল,,জয় মা কালী,,” রামপ্রসাদ গর্জে উঠে বলল,,”ওরে পাপিষ্ঠ, মায়ের নামে আর কত মিথ্যা বলবি? কত অধর্ম করবি?? নরকে যাবি তুই,,নরকে,,,,” কালীচরণ রামপ্রসাদের কানে মুখ রেখে ফিসফিস করে বলল,,, “এই শহরে আমি প্রধান পুরোহিত হব, গুরুজি,,, তুমি বেঁচে থাকলে তা তো হবে না,, তোমাকে এরা ভালবাসে,,, আমি এই শহরের রাজা হব,,, সবার মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাব,ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করব,,যা ইচ্ছা তাই করব,,, বড়লোক হব,,সবার কাছ থেকে নরক আর কালীর ভয় দেখিয়ে টাকা নেব,,, তুমি কি মনে কর,ওই মেয়েদের আমি এমনি এমনি বলি দিয়েছি??? আমি সবার মনে ভয় দেখিয়েছি,,, আমি সেদিন ইচ্ছা করে ধরা দিয়েছি,,আজ ফিরব বলে,,, সবাই জানে আমি কালীকে রক্ত দিই,,যখন প্রধান পুরোহিত হব,তখনো সেটাই করব,মানুষ আমাকে টাকা দেবে,,, আমি যেন টাকার বিনিময়ে তাদের মেয়েকে রক্ষা দিই,,, টাকা পেয়ে অনেক বড়লোক হব,,সবাই আমাকে ভয় পাবে,,তারপর আমি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সামনে যাব,,বলব,এই দেখ,এই লোকেরা আমাকে ভয় পায়,,তোমাদের তো ভয় চাই,তাই না??? তোমরা যা চাইবা,এই লোকদের ভয় দেখিয়ে আমি তা ই করাব,,, আমাকে জমিদার বানিয়ে দাও,,, তারপর ওরা আমাকে জমিদার বানাবে,,তারপর আস্তে আস্তে আমি রাজা হব,,,, হি হি হি,,,” রামপ্রসাদ বলল,, “ওরে শয়তান,,ওরে রাক্ষস,,, তোর জন্য করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে,,,,” কালীচরণ বলল,,”করুণ পরিণতি কি আমার জন্য অপেক্ষা করছে??? আমি নরকে যাব??? আজ নরকের আগুণ তোমাকে দেখাব,,, এই কে কোথায় আছিস,,তেল আর মশাল আন,,দেবির সামনে আজ রামপ্রসাদকে জ্যান্ত পোড়াব,,,,” চারদিকে কান্নার রোল পড়ল,,, কালীচরণ মশাল হাতে এগিয়ে গেল,,, এমিলি চিৎকার করে সামনে আসল,,, “কালীচরণ,থামো,,, এই লোককে যদি তুমি মারতে চাও,তোমার ফাঁসি হবে,,দেশে আইন আছে,,,

কোম্পানি তোমাকে ছাড়বে না,,, কোম্পানিও যদি কিছু না করে,,৩ দিন পর জাহাজ আসছে,,, ওখানে ব্রিটিশ সৈন্যও আসছে কোম্পানির কার্যকলাপ তদারকির জন্য,,, ওরা তোমাকে ছাড়বে না,,,এখনো সময় আছে,,ওদের তুমি ছেড়ে দাও,,,” কালীচরণ ইতস্তত করত লাগল,,, এমিলি বলল,, “তুমি থামবে না? আমি চললাম কোম্পানর লোকদের আনতে,,,,” কালীচরণ কনফিউজড হয়ে গেল,, মেয়েটা যদি এখন কোম্পানির লোক আনতে যায়,,, তাহলে ওরা এসে এখানে সব শেষ করে দেবে,,আর মেয়েটাকে যদি বাধা দিতে লোক পাঠাই,,রামপ্রসাদের ভক্তরা এদের মুক্ত করে দেবে,,তার ভাবাভাবির ফাঁকেই এমিলি কোম্পানির উদ্দেশ্যে রওনা দিল,,, কালীচরণ তার এক চামচাকে পাঠাল মেয়েটার পিছু পিছু,,ও কি করে তা দেখতে,,, ছেলেটা কি করবে কিছুই বুঝতে পারল না,,সে এমিলির সাথে সাথে গেল,,, সেও খেয়াল করল না,,পিছে একটা লোক আসছে,,, এমিলি কোম্পানির কাছে গেল,,সে সব খুলে বলে কোম্পানির সাহায্য চাইল,, কোম্পানি বলে দিল,তারা এদেশের কে কাকে মারল, পোড়াল,,এর প্রতি আগ্রহ দেখায় না,,, এমিলির কথা তারা শুনবে না,,এমিলি এমনিই তাদের অনেক জ্বালিয়েছে,,, এমিলির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল,,জাহাজ আসতে ৩ দিন বাকি,ততদিন রামপ্রসাদকে সে কিভাবে বাঁচিয়ে রাখবে??? এদিকে সেই চামচাটা এগুলো শুনে দৌড়ে কালীচরণকে জানাল সব,,কালীচরণ আর দেরি না করে,রামপ্রসাদ সহ যত ভাল পুরোহিত ছিল সবাইকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারল,,, এমিলি না জেনে সেখানে আবার গেল,,,গিয়ে আড়ালে দাঁড়িয়ে সব দেখল,,দেখে কেঁদে দিল,,, তারপর দেখল,তারা নিবেদিতাকে জ্যান্ত পুড়ায় নি,, তাকে নিয়ে যাচ্ছে জঙ্গলের মাঝের সেই কালী মন্দিরে,,, বলি দেবার জন্য। এমিলি পিছু পিছু যেতে লাগল,,ছেলেটা বাধা দিল,,,এমিলি ছেলেটাকে বলল,,নিবেদিতাকে সে বাচাবেই,,, ছেলেটাকে বলল,,”তুমি এগুলো লিখে ফ্যাক্সে করে ইংল্যান্ড এ পাঠাও,,,ওরা আমাদের বাসা চেনে না,,আমি নিবেদিতাকে কোনভাবে মুক্ত করে ফিরব,,ওখান থেকে ৩ দিন কোথাও পালিয়ে আমরা জাহাজে উঠব,, ব্রিটিশ সৈন্যের কথা আমি মিথ্যা বলেছি ওকে ভয় দেখাতে,,কোন সৈন্য আসবে না,,,কিন্তু তোমার ফ্যাক্স পেলে কালীচরণকে মারতে ওরা অবশ্যই আসবে।”

ছেলেটা তখনও বলে নি এমিলিকে, যে ওর এই দুনিয়ায় কোন অস্তিত্ব নেই,,ওর ফ্যাক্স করবে কিভাবে,,, লিখবেও বা কিভাবে,, অশ্রুভেজা ঝাপসা চোখে সে এমিলির চলে যাওয়া দেখল,,,, সে ফিরে আসল,, কোম্পানির লোকদের সে স্পর্শ করতে চাইল,,পারল না,,কানেত কাছে চিৎকার করল,,শুনল না কেউ,,,, সে খোলা সৈকতে নামাজে দাড়াল,,, আল্লাহর কাছে চাইল,,প্লিজ,আল্লাহ, এমিলিকে বাঁচাতে দাও আমাকে,,,, নামাজ পড়ে এসে সে আবার শহরের দিক গেল,,, পথিমধ্যে এক মসজিদের ইমাম যাচ্ছিল,,, ছেলেটা তার সাথে ধাক্কা খেল,,, ইমাম তার দিক তাকাল,,ছেলেটা বুঝল তার দোয়া কবুল হয়েছে,,,সে ইমামকে পুরো কাহিনী খুলে বলল কালিচরণের,,,বলল,তাকে লিখে সেটা ফ্যাক্স করতে হবে ইংল্যান্ডে,,রাণ ি ডাইরেক্ট অর্ডার দিলে হয়ত কোম্পানি কালীচরণকে ধরতে লোক পাঠাবে,,,, ইমাম সেই কথাগুলো ইংলিশে লিকগে ইংল্যান্ড এ ফ্যাক্স করে দিল,,,, কাজ টা শেষ হবার সাথে সাথে সে ছেলেটাকে আর দেখতে পেল না,,ছেলেটা বুঝল,,এই কাজ টি করার জন্যই আল্লাহ তাকে সুযোগ দিল,,, ছেলেটা জঙ্গলের মাঝে সেই মন্দিরের দিক যেতে লাগল,,, ততক্ষণ এ ফ্যাক্স পৌছে গেছে ইংল্যান্ড এ,,রাণী কোম্পানিকে অর্ডার দিল কালীচরণকে ধরে আনতে আর এমিলিকে বাঁচাতে,,কোম্পানি সৈন্য পাঠাল জঙ্গলে,,, ছেলেটা যখন জঙ্গলে পৌছাল,তখন দেখল নিবেদিতাকে নিয়ে এমিলি দৌড়ে পালাচ্ছে,,তার দিকেই তারা আসছে,, এমিলির কপাল থেকে রক্ত ঝরছে,,, এমিলি ছেলেটাকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়ল,,,

বলল,,”ওরা আমাদের পিছ পিছ আসছে,,, পালাও,,দৌড়াও,,,” ছেলেটা বলল,,”তোমরা থেম না,,দৌড়াও,,ওরা আমার কিছুই করতে পারবে না,,” এমিলি বলল,,”পাগল হয়েছ??? ওরা অনেকজন,,তোমাকে মেরে ফেলবে,,,” ছেলেটা বলল,,,”তুমি বুঝছ না,,ওরা আমাকে দেখতেই পাবে না,,,” এমিলি বলল,,”মানে?” ততক্ষণ এ কালীচরণের দল ওদের দেখতে পেয়েছে,,,নিবেদিতা ভয়ে এমিলির হাত ছেড়ে দৌড় দিল,,,, এমিলি কোথাও গেল না,,, ছেলেটাকে বলল,,”প্লিজ চল,,” ছেলেটা বলল,,”এমিলি,,আমার কোন অস্তিত্ব নেই,,,আমি তোমার মনের একটা কল্পনা মাত্র,, প্লিজ,,ওরা তোমাকে মেরে ফেলবে,,পালাও,,,, ” এমিলি বলল,,”তুমি অসুস্থ,,তাই হয়ত দৌড়াতে পারছ না,তাই না??? ওকে,সমস্যা নেই,আমি যাব না কোথাও,,, আমি বাচলে তোমার সাথে বাঁ,,মরলে তোমার সাথেই,,,,” ছেলেটা কেদে দিল,, “এমিলি,এটা তুমি কি করলা??? আমি কিচ্ছু না,,,আমার অস্তিত্ব নেই,,আমি কিভাবে এখানে আসলাম,কেউই জানে না,,, আমাকে তুমি ছাড়া কেউই দেখতে পারে না,,শুনতে পারে না,,স্পর্শ করতে পারে না,,,,” কালীচরণরা একদম কাছে চলে এল,,,, ছেলেটা কাঁদছে,,,”আমি এটা কি করলাম??? আমার জন্য আমার ভালবাসার মানূষটা মরে গেল,,,,” কালীচরণ এসে এমিলিকে চেপে ধরল,, এমিলি সভয়ে দেখল,,ওরা ছেলেটার শরীর ভেদ করে যাচ্ছে,,, ছেলেটা যেন ওখানে নেই,,, ওরা টানতে টানতে এমিলিকে যূপকাষ্ঠ তে নিয়ে গেল,,, এমিলি চিৎকার করে বলতে লাগল,, “সুইটহার্ট,আমাকে প্লিজ বাঁচাও,,ওরা আমাকে মেরে ফেলবে,,আমি তোমার সাথে বাঁচতে চাই,,অনেকদিন বাঁচতে চাই,,,,” ছেলেটার চিৎকার করে কান্না কেউ শুনল না,,,,কোম্পানির সৈন্য একদম কাছে চলে আসল,,,কিন্তু তারাও এমিলির ঘাড় থেকে মাথা আলাদা হওয়া আটকাতে পারল না,,,, কালীচরণ বা,তার সঙ্গী দের ফাঁসি হল,,নাকি গুলি করা হল,ছেলেটা কোন আগ্রহই দেখাল না,,সে চিৎকার করতে লাগল,,”এমিলি,,,এমিলি,,,,” একটা পশ্চাৎমুখী টান অনুভব করল সে,,এরপর কিছুসময় অন্ধকার,,,, তারপর এমিলি এমিলি করতে করতেই সে চোখ মেলল,,

চোখ মেলে দেখল,,সে আধুনিক হাসপাতালে,,আশেপাশে তার মা বাবা বসে আছে,,তার মা কাঁদছে,,,, ৩ মাস পর ছেলেটা কোমা থেকে উঠেছে আজ,,,, সেই যে ঘুমিয়েছিল ৩ মাস তার কোন সাড়া ছিল না,,,, ছেলেটা সারাদিন এমিলির নাম করে এখন,,এমিলি কে তা তার মা বাবা জানে না,,,, তবে গুগলে সার্চ দিলে এমিলি সন্ডার্স কে তা জানা যায়,,, এক বছর কুড়ির সুন্দরি সাংবাদিক,,, যে বাংলাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অত্যাচার সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডের পত্রিকায় জানায়,, এমনকি ভবিষৎবাণী করে যে,১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহ হতে পারে,,, সেই খবরের সত্যতা বুঝেই সিপাহি বিদ্রোহের পর ব্রিটেন এদেশ থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বিলুপ্ত করে,,, মেয়েটা সবসময় একটা ছেলের কথা লিখত,যে এসব তথ্য পেতে তাকে সাহায্য করত,,,,, সেই ছেলেটা একদিন ফ্যাক্সে করে এক অবিশ্বাস্য ঘটনার বর্ণনা দেয় লন্ডন গেজেট অফিসে,,, এক ইমামকে দিয়ে লেখানো ফ্যাক্স,, এমিলি সন্ডার্স,এক হিন্দু পুরোহিত পরিবারকে বাঁচাতে এক ধর্ম ব্যাবসায়ী পিশাচসাধকের রোষানলে পড়ে,,ছেলেটা কে কেউই জানে না,,তবে ওই হিন্দু পরিবারের একটা মেয়ে নিবেদিতাকে বাচাতে গিয়ে এমিলি খুন হয়। ছেলেটার বাবা মা ছেলের রোগ সারাতে সব ডাক্তার দেখায়,,কেউ কিছু করতে পারে না,,, অবশেষে তারা প্যারানরমাল বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হন।

একদিন ছেলেটা ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে,হঠাৎ সে শোনে তার মা ড্রইং রুমে এক লোকের সাথে কথা বলছে,, লোকটা একটা প্যারানরমাল এক্টিভিস্ট,,সে তার মাকে বলে,”কিছু লোক এর এরকম আশ্চর্য মানসিক ক্ষমতা থাকে,,যারা,একস্থান থেকে তাদের আত্মা আরেক জায়গায় পাঠিয়ে দিতে পারে,,সেটা,২০০ মাইল দূরে হলেও,,, সেখানে কি ঘটে তা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে বলতে পারে,, কিন্তু তাদেরকে সে জায়গায় দেখা যাত না,,আবার যায়ও,,, এই ক্ষমতাটাকে বলা হয় টেলিপ্যাথি,,, দুনিয়ার অনেক মানুষ এই ক্ষমতা পেতে বিলিয়ন ডলার খরচ করতেও রাজি,,, আপনারা চিন্তা করেন না,, আমি আপনাদের ছেলেকে এই ক্ষমতাটা কন্ট্রোল করার প্রশিক্ষণ দিব,,, তবে খুব ভাল হয়,ব্যপারটা যদি কোন নিরিবিলি স্বাস্থ্যকর জায়গায় হয়,,এরকম গুমোট শহুরে এলাকায় সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে যায়।” ছেলেটাকে সারাতে তার মা বাবা কক্সবাজার পাঠায়,সুন্দর পরিবেশ এ। এমিলিকে যেখানে সে প্রথম দেখে,,, আজ সবকিছুই বদলে গেছে,,সেই পুরনো অভিশপ্ত জঙ্গল টা আর নেই,,ওখানে মার্কেট হয়েছে,,,এমিলি এই সৈকতে দাঁড়িয়ে ছেলেটার দিক তাকিয়ে মুচকি হেসেছিল,,, সৈকতটা আছে,,এমিলি নেই। সেই এক্টিভিস্ট সপ্তাহে এসে টেলিপ্যাথি কন্ট্রোল করতে শিখায়। ছেলেটা টেলিপ্যাথি করে আবার অতীতে যাবার চেষ্টা করে,,এমিলিকে একটা বার দেখতে,,, টেলিপ্যাথি করে সে ইংল্যান্ডের সেই এমিলির ঠিকানায় যায়,,এমিলি আর আসে না,,ঠিকানা যেন দূরে সরে যায়,,,ছেলেটা থামবে না তারপরও,,,এমিলিকে তার দেখতেই হবে আবার,,,,যতদিন সে বেঁচে আছে,,, “যতদিন আছি আমি,খুজব তোমায় দেখব এর শেষ কোথায় যখনি আমি খুব কাছাকাছি ঠিকানা দূরে সরে যায়,,,”
5 years ago ( Jun 14, 2017 ) 1,099 views
Facebook

1 responses to “এক জনের “”অস্তিত্ব”” সে কোথাই যে অজানা রাজ্যে হারিয়ে জায়”

  1. Asikur (administrator)

    mice

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

Related Posts